24th November, 2025

হার্টে ময়লা জমলেই অবধারিত HEART ATTACK ! কেন 'প্লাক' তৈরি হয় জানেন?

images/atheroma.jpeg

অ্যাথেরোমা বা প্লাক! চিকিৎসকদের সঙ্গে নিতান্তই একটা মামুলি শব্দ হলেও যে কোন মানুষের জীবনেই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে অ্যাথেরোমা। এখন প্রশ্ন হল, এই অ্যাথেরোমা আসলে কি? অ্যাথেরোমা হল কোলেস্টেরল, প্রোটিন এবং আপনার রক্তে সঞ্চালিত অন্যান্য উপাদান দিয়ে তৈরি একটি চর্বিযুক্ত পদার্থ। এটি সময়ের সাথে সাথে আপনার ধমনীতে জমা হয়। অ্যাথেরোমা সাধারণত অ্যাথেরোস্ক্লেরোটিক প্লাক বা প্লাক নামে পরিচিত। অ্যাথেরোমা আপনার ধমনীর অভ্যন্তরে তৈরি হয়ে শরীরের মধ্য দিয়ে রক্ত চলাচলকে ব্যাহত করে।

এখন প্রশ্ন হল কিভাবে অ্যাথেরোমা তৈরি হয়?

প্রথমত, ধমনীর ভেতরের আস্তরণ (এন্ডোথেলিয়াম) ক্ষতিগ্রস্ত হলে, কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য পদার্থ ধমনীর প্রাচীরের নিচে জমা হতে শুরু করে। আর এই ক্ষতিগ্রস্ত এন্ডোথেলিয়ামের নিচে চর্বি এবং কোলেস্টেরল জমেই পরবর্তীকালে একটি নরম, চর্বিযুক্ত প্লাক তৈরি হয় যাকে বলে অ্যাথেরোমা। সময়ের সাথে সাথে, ক্যালসিয়াম জমে প্লাক আরও শক্ত হতে শুরু করে এবং এই প্লাকগুলো ধমনীর পথকে ধীরে ধীরে সরু করে দেয়। আর সেই কারণেই রক্তপ্রবাহ কমে হয়ে যায়। হাই কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার কারণেই এথেরোস্ক্লেরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে।

প্রাথমিক অবস্থায় অ্যাথেরোমার লক্ষণ খুব একটা ভালো বোঝা যায় না। তবে পরবর্তীকালে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। সেক্ষেত্রে শরীরের কোন ধমনিতে হয়েছে এবং কতটা রক্তপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে তার উপর নির্ভর করে লক্ষণগুলো। হৃদপিণ্ডের ধমনিতে (করোনারি আর্টারি) অ্যাথেরোমা হলে বুকের মাঝখানে চাপ বা জ্বালা পোড়া (অ্যাঞ্জাইনা), বুকে ব্যথা, হাঁটলে বা ব্যায়াম করলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট এবং হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এছাড়া, মস্তিষ্কের ধমনিতে হলে হঠাৎ ঝাপসা দেখা, কথা বলতে অসুবিধা, শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া, স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। হাঁটুর নিচের ধমনিতে (পেরিফেরাল আর্টারি) হলে হাঁটার সময় পায়ের পেশিতে ব্যথা, ক্ষত হলে সারতে সময় লাগার মত সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি কিডনির ধমনিতে হলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

এবার কোথায় প্লাক জমা হচ্ছে তার উপর নির্ভর করেই চিকিৎসা করা হয়। সেক্ষেত্রে চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য হল ধমনির ভেতরের প্লাক জমা কমানো, রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো। তিনটি পদ্ধতিতে হার্ট অ্যাটাকর চিকিৎসা করা হয়। প্রথমত হচ্ছে ওষুধ পত্র দিয়ে চিকিৎসা। ব্লকেজ বেশি হলে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট বসানো: ধমনীতে ফোলানো বেলুন দিয়ে ও ধাতব স্টেন্ট বসিয়ে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়। আর একটার বেশি ধমনীতে কিম্বা একাধিক জায়গায় ব্লকেজ হলে বাইপাস সার্জারিই শ্রেয়। সেক্ষেত্রে ব্লকড ধমনির পাশ দিয়ে নতুনভাবে রক্তপ্রবাহের পথ তৈরি করা এবং প্রয়োজন হলে এনডার্টেরেক্টমি (Endarterectomy) অর্থাৎ ব্লকড ধমনির ভেতরের প্লাক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেও সরানো হয়।

একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, প্লাক যাতে না জমে সেই জন্যে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ খাওয়া প্রয়োজন। তবেই আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন‌।

Share this:

Comments

Leave a Reply

Featured Video

Weather Forecast

Calendar